11KV PT INDOR
১. ভোল্টেজ কমানো (Voltage Stepping Down)
মূল কাজ: সাবস্টেশন বা পাওয়ার লাইনে সাধারণত হাজার হাজার ভোল্ট (যেমন: ১১,০০০ ভোল্ট বা ৩৩,০০০ ভোল্ট) বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। এই উচ্চ ভোল্টেজ সরাসরি সাধারণ কোনো মিটার দিয়ে মাপা অসম্ভব এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক।
সমাধান: এই পিটি (PT) সেই হাই ভোল্টেজকে কমিয়ে সাধারণত ১১০ ভোল্ট (110V) বা ১০০ ভোল্ট (100V)-এ নামিয়ে আনে, যা সাধারণ ভোল্টমিটার বা রিলে দিয়ে সহজেই মাপা যায়।
২. ভোল্টেজ পরিমাপ করা (Voltage Measurement)
পিটি-র সেকেন্ডারি টার্মিনাল থেকে যে ১১০ ভোল্ট আউটপুট পাওয়া যায়, তা সরাসরি কন্ট্রোল প্যানেলের ভোল্টমিটার (Voltmeter) বা এনার্জি মিটারে (Energy Meter) যুক্ত থাকে।
এর মাধ্যমে লাইনে ঠিক কত ভোল্টেজ আছে তা সেফটি বজায় রেখে নিখুঁতভাবে মাপা বা মনিটর করা যায়।
৩. প্রটেকশন বা লাইনের সুরক্ষা (Protection System)
পাওয়ার লাইনে যদি হঠাৎ করে ভোল্টেজ অনেক বেড়ে যায় (Over-voltage) কিংবা অনেক কমে যায় (Under-voltage), তবে এই পিটি সেই পরিবর্তনের সিগন্যালটি ধরে ফেলে।
এটি সেকেন্ডারি লাইনের মাধ্যমে প্রোটেকশন রিলে (Protection Relay)-কে অ্যালার্ট পাঠায়। রিলে তখন সাথে সাথে সার্কিট ব্রেকারকে (Circuit Breaker) ট্রিপ বা বন্ধ করে দেয়, যার ফলে দামি দামি যন্ত্রপাতি পুড়ে যাওয়া থেকে বেঁচে যায়।
৪. আইসোলেশন বা ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা (Safety & Isolation)
এটি হাই-ভোল্টেজ পাওয়ার লাইন এবং লো-ভোল্টেজ মেজারিং লাইনের মধ্যে একটি সম্পূর্ণ শারীরিক এবং বৈদ্যুতিক দূরত্ব (Isolation) তৈরি করে।
এর ফলে সাবস্টেশনে কর্মরত ইঞ্জিনিয়ার বা টেকনিশিয়ানরা যখন মিটার রিডিং নেন বা প্যানেলে কাজ করেন, তখন হাই-ভোল্টেজের সংস্পর্শে এসে শক খাওয়ার কোনো ঝুঁকি থাকে না।
এটি কীভাবে কাজ করে? (Working Principle)
এটি মূলত ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন (Electromagnetic Induction) নীতিতে কাজ করে:
এর ভেতরে একটি প্রাইমারি উইন্ডিং (Primary Winding) থাকে, যাতে অনেক বেশি প্যাঁচ (Turns) থাকে এবং এটি হাই ভোল্টেজ লাইনের সাথে যুক্ত হয়।
এর অপর পাশে একটি সেকেন্ডারি উইন্ডিং (Secondary Winding) থাকে, যাতে প্যাঁচের সংখ্যা অনেক কম থাকে।
ম্যাগনেটিক কোরের মাধ্যমে প্রাইমারি লাইনের হাই ভোল্টেজ অনুপাতে সেকেন্ডারি লাইনে একটি অত্যন্ত কম এবং নিরাপদ ভোল্টেজ তৈরি বা ইনডিউসড (Induced) হয়।
সহজ কথায়, এই যন্ত্রটি হাই-ভোল্টেজ লাইনের একটি "নিরাপদ আয়না" হিসেবে কাজ করে, যা লাইনের সঠিক অবস্থা বাইরে থেকে দেখতে সাহায্য করে।
11KV CT INDOR
| 11KV CT INDOR |
১. নেমপ্লেট ও স্পেসিফিকেশন বিশ্লেষণ.
ইলেকট্রিক্যাল পরিভাষায় একে বলা হয় সিটি রেশিও (CT Ratio)।
প্রাইমারি কারেন্ট (100A): এর মানে হলো, মেইন পাওয়ার লাইনে যখন সর্বোচ্চ ১০০ অ্যাম্পিয়ার কারেন্ট প্রবাহিত হবে, তখন এই সিটি সেটি গ্রহণ করবে।
সেকেন্ডারি কারেন্ট (5A): ১০০ অ্যাম্পিয়ার কারেন্টকে এই যন্ত্রটি অনুপাত অনুযায়ী কমিয়ে মাত্র ৫ অ্যাম্পিয়ারে রূপান্তর করে নিচের সেকেন্ডারি টার্মিনালে পাঠাবে। যদি লাইনে ৫০ অ্যাম্পিয়ার কারেন্ট থাকে, তবে এটি আউটপুটে ২.৫ অ্যাম্পিয়ার দেবে।
২. প্রধান অংশসমূহ এবং তাদের কাজ
ক) প্রাইমারি টার্মিনাল (P1 এবং P2)
অবস্থান: সিটির ওপরের অংশে দুটি করে মোট চারটি নাট-বোল্ট সহ মেটাল কন্টাক্ট দেখা যাচ্ছে। একপাশে P1 এবং অন্যপাশে P2 লেখা রয়েছে (P মানে Primary)।
কাজ: সাবস্টেশন বা প্যানেলের মেইন হাই-কারেন্ট বাসবার বা তারটি P1 দিয়ে ঢুকে P2 দিয়ে বের হয়ে যায়। অর্থাৎ, এটি লাইনের সাথে সিরিজ (Series)-এ যুক্ত থাকে।
খ) সেকেন্ডারি টার্মিনাল (شفاف প্লাস্টিক কভারের নিচে)
অবস্থান: নিচের দিকে বাঁপাশে একটি স্বচ্ছ প্রোটেক্টিভ প্লাস্টিক কভারের ভেতরে ছোট টার্মিনাল রয়েছে (এগুলোকে সাধারণত S1 এবং S2 বলা হয়)।
কাজ: এখান থেকে কম পরিমাণের নিরাপদ কারেন্ট (০ থেকে ৫ অ্যাম্পিয়ার) তারের মাধ্যমে কন্ট্রোল প্যানেলের অ্যামিটার (Ammeter), এনার্জি মিটার বা প্রোটেকশন রিলে (Relay)-তে পাঠানো হয়।
গ) কাস্ট রেজিন ইনসুলেশন (বাদামী বডি)
এটি সম্পূর্ণ ডিভাইসটিকে বাইরের ধুলো, আর্দ্রতা এবং উচ্চ ভোল্টেজ থেকে নিরাপদ রাখে। এটি কোনো তেল বা গ্যাস ছাড়াই কাজ করতে পারে, তাই একে ড্রাই-টাইপ ট্রান্সফরমার-ও বলা হয়।
৩. কারেন্ট ট্রান্সফরমারের প্রধান কাজসমূহ (Functions)
কারেন্ট পরিমাপ (Measurement): হাজার অ্যাম্পিয়ার কারেন্ট মাপার জন্য বিশাল আকৃতির মিটারের প্রয়োজন হয় না। এই সিটির কল্যাণে একটি ছোট ৫ অ্যাম্পিয়ারের ডিজিটাল বা অ্যানালগ অ্যামিটার দিয়েই বিশাল লাইনের কারেন্ট মাপা সম্ভব হয়।
সুরক্ষা বা প্রোটেকশন (Protection): লাইনে যদি কখনো শর্ট-সার্কিট বা ওভার-কারেন্ট (Over-current) হয়, তখন সেকেন্ডারি কারেন্টও ৫ অ্যাম্পিয়ারের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়। এই আকস্মিক পরিবর্তন দেখে প্যানেলের 'রিলে' বুঝতে পারে যে লাইনে সমস্যা হয়েছে এবং সে তৎক্ষণাৎ সার্কিট ব্রেকার ট্রিপ করিয়ে পুরো সিস্টেমকে বাঁচিয়ে দেয়।
নিরাপত্তা (Isolation): মেইন লাইনে উচ্চ ভোল্টেজ এবং মারাত্মক কারেন্ট থাকে। সিটি তার ম্যাগনেটিক কোরের মাধ্যমে মেইন লাইন থেকে মেজারিং মিটারগুলোকে সম্পূর্ণ আলাদা বা আইসোলেটেড রাখে। ফলে মিটার বা কন্ট্রোল রুমে থাকা মানুষের কোনো বিপদের ঝুঁকি থাকে না।
৪. একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা (যাই নেমপ্লেটেও লেখা আছে)
সিটির নেমপ্লেটের নিচের দিকে একটি সতর্কবার্তা (Warning) লেখা থাকে। ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এটি অত্যন্ত জরুরি:
"NEVER OPEN CIRCUIT THE SECONDARY OF A CURRENT TRANSFORMER" (কারেন্ট ট্রান্সফরমারের সেকেন্ডারি সাইড কখনো খোলা বা ওপেন রাখা যাবে না)।
কেন? যদি মেইন লাইনে কারেন্ট প্রবাহিত হওয়া অবস্থায় সেকেন্ডারি টার্মিনালের তার খুলে ফেলা হয় বা ওপেন রাখা হয়, তবে সিটির কোরে বিশাল পরিমাণ ম্যাগনেটিক ফ্লাক্স তৈরি হয়।
ক্ষতি: এর ফলে সেকেন্ডারি টার্মিনালে কয়েক হাজার ভোল্ট পর্যন্ত বিপজ্জনক হাই-ভোল্টেজ তৈরি হতে পারে। এতে সিটিটি মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে এবং আশেপাশে থাকা টেকনিশিয়ান মারাত্মক বৈদ্যুতিক শক খেতে পারেন। তাই সেকেন্ডারি লাইনে কোনো মিটার যুক্ত না থাকলে টার্মিনাল দুটিকে তার দিয়ে শর্ট (Short-circuit) করে রাখতে হয়। "Safety power" এই সাবস্টেশন ইকুইপমেন্টগুলোর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যোগাযোগ নম্বর - 01956-862669.




.png)
.png)
.png)
.png)
.png)







No comments:
Post a Comment
আপনার মূল্যবান মন্তব্য আমাদের জানান